How to

রং সৃস্টির ইতিহাস: পৃথিবীতে রং সৃস্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে মানব সভ্যতা বহু প্রাচীন কাল থেকেই রং এর ব্যবহারে পারদর্শী ছিল। ধারনা করা হয় প্রায় ১০ হাজার বছর পূর্বেও পৃথিবীতে রং এর ব্যবহার ছিল। প্রাচীন মিশরীয়রা রং ব্যবহারে অধিকতর ধারনা রাখত কারন  তৎ সময়কার রাজা  ফারাও এর সমাধিস্থলেও রং লেপনের অস্তিত্য¡ পাওয়া গিয়াছিল। তারপর প্রাচীন রোম সভ্যতাও তাদের রাজাদের প্রাসাদ এবং অট্টালিকাগুলোতেও সু-নিপুন শিল্পীর তুলিতে রং এর শোভাবর্ধন করত। খৃষ্টের জন্মের ৪০০-৫০০ বছর পরেও গ্রীস এবং  রোমের প্রাচীন বিভিন্ন গির্জা বা উপাশনালয়ে রং , ভার্নিশ বা কারুশিল্পের প্রমান পাওয়া গিয়েছিল। তবে তখনকার রং শিল্প আজকের মত এত উন্নত পর্যায়ে উপনীত হয়নি তাই আধুনিক রং শিল্পের ইতিহাস সাধারনত  ১৭০০ সালের পর থেকেই   গন্য  করা হয়। তবে গত ১ শতাব্দী যাবত রং , ভার্নিশ শিল্পের  যথেস্ট প্রশার লাভ করিয়াছে। বর্তমান  সময়ে রং শিল্পের উন্নতীর সাথে-সাথে মানুষের স্বাস্থ হানি যাতে না ঘটে সেই দিকেও যথেস্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আমরা কেন  রং বা ভার্নিশ ব্যবহার করব : যুগ যুগান্তরের পরিবর্তনের ফলে মান॥ষের মনেরও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাই পরিবেশের ও আবহাওয়ার সাথে অধিকতর সামন্জস্ব ও টেকশই থাকার জন্য মানুষের ব্যবহৃত দৈনন্দিন  বস্তুতে রং, ভার্নিস বা কারু শিল্পের প্রয়োজন। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি, পরিবেশের প্রতিকুল আবহাওয়া ও অবস্থা থেকে রক্ষার জন্যই সাধারনত রং ব্যবহার করা হয়। যেমন আমাদেন দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আসবাবপত্র সমুহের মধ্যে অধিকাংশই তৈরী হয় সাধারনত কাঠ, বেত, বাঁশ, হার্ডবোর্ড, প্লাইউড এবংবিভিন্ন ধাতু দিয়ে। ধাতু ব্যাতিত এই সকল বস্তু সাধারনত কীট ,পতঙ্গ, ছত্রাক বা উই পোকার আক্রমনের শিকার হয় এবং  স্থায়ীত্ব কমে যায় তাই গুনগতমানও স্থায়ীত্বের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের বস্তুর উপর বিভিন্ন ধরনের রং বা ভার্নিশের প্রলেপ দেয়া হয়।  এতে সকল ব্যবহৃত বস্তুর কার্যকরিতা অনেকাংশে  বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিভিন্ন ধাতুর তৈরী স্থাপনা বা সরঞ্জাম অধিকতর ক্ষয়রোধকারী হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যেই রং প্রলেপনের প্রয়োজন। বর্তমানযুগে আবাশনের  ক্ষেত্রে একটি বিরাট অংশে জুড়ে আছে ইট ও সিমেন্ট তৈরী বিল্ডিং দেয়াল। এই সকল দেয়াল ক্ষয়রোধকারী বৈশিষ্ট  অর্জিত না হলে তা অধিকতর ব্যবহার উপযোগিতা হারাবে তাই সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ীত্ব বৃদ্ধির জন্যও রং প্রলেপনের প্রয়োজন।

রং করার পদ্ধতি ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করন:
রং করার পূর্বে যে বিষয়টি সর্ব প্রথম মনে রাখতে হবে তা হলো উপযুৃক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত করে সঠিক পদ্ধতিতে রং প্রলেপ করা। যেমন আমরা যদি দেয়ালে রং করার চিন্তা করি, প্রথমেই দেয়ালের উপরিভাগ (ভিতরে এবং বাহিরে) উঁচু- নিচ,ু আঁকা-বাকা, ফাটল কিংবা দেয়ালে ছিদ্র থাকা, প্লাস্টার খসে পরা থাকলে তা সমান করতে হবে। দেয়ালের পুরানো রং সিরিষ কাগজ অথবা স্ক্রাপার দিয়ে ঘষে মেজে তুলে ফেলতে হবে। আস্তরণ করে ঘষে-মেজে মসৃন করে নিতে হবে। দেয়ালের ভিতরে কিংবা বাহিরে বৃষ্টি বা আদ্রতার কারনে শ্যাওলা বা ছত্রাক জমে থাকলে তা পরিস্কার করে নিতে হবে। কারন দেয়াল রং করার জন্য পুরোপুরি উপযোগী না হলে তাতে রং করা হলে রংয়ের স্থায়ীত্ব এবং সৌন্দর্য দুটোই ভেস্তে যাবে। দেয়ালে রং করার জন্য বেশ কয়েক ধরনের রং পাওয়া যায় যেমন প্লাষ্টিক ইমালসন, সিল্ক ইমালসন, আউটার কোট, সিনথেটিক ডিস্টেম্পার, পাউডার কোটিং ইত্যাদি। এই সমস্ত রংগুলো থেকে সাধ এবং সাধ্যের কথা বিবেচনা করে একজন দক্ষ রং মিস্ত্রির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পছন্দমত রং নির্ধারন করা যায়।

কাঠ, বাঁশ, বেত, প্লাইউড, হার্ডবোর্ডের তৈরী বিভিন্ন ব্যবহৃত বস্তুর উপর রং প্রলেপনের জন্য প্রথমেই এই সকল বস্তু শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে পরিস্কার, মর্সন ও শুস্কতা নিশ্চিত করতে হবে। তারপরে প্রয়োজনীয় আন্ডার কোট বা প্রাইমার লাগানো হয়ে গেলে সর্ব শেষ মাষ্টার কোট ব্যবহার করে কাজ শেষ করতে হবে এতে করে বস্তুর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এর স্থায়ীত্ব ¡ অধিকতর বেড়েযাবে।

লোহা বা বিভিন্ন ধাতুর তৈরী আসবাবপত্র, স্থাপনা বা দৈনন্দিন ব্যবহার্য বস্তু বা যান বাহনে রং করার পূর্বে ভালভাবে পরিস্কার করে প্রয়োজনবোধে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে ধুলাবালি, তেল গ্রীজ ইত্যাদি থাকলে তা তুলে ফেলতে হবে। এরপর উপযুক্ত প্রাইমকোট লাগানোর পরে শুস্ককরন নিশ্চিত করে তারপর দাম ও ধরন অনুযায়ী টপ কোটের প্রলেপ দিতে হবে তাতে করে ধাতুর তৈরী এই সকল বস্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী হবে এবং দেখতে দর্শনীয় হবে।

এ্যাকোয়া পেইন্টস এর জনপ্রিয় সাধারণ প্রোডাক্টসমুহ:

১. এ্যাকোয়া প্লাস্টিক ইমালসন
২. এ্যাকোয়া ডিস্টেম্পার (প্লাস)
৩. এ্যাকোয়া আউটার কোট
৪. এ্যাকোয়া সিল্ক প্রিমিয়াম ইমালসন
৫. এ্যাকোয়া ওয়াটার সিলার
৬. এ্যাকোয়া ওয়াল পাট্টি
৭. এ্যাকোয়া ইলাসটোমারিক রুপকোট
৮. এ্যাকোয়া উড ভার্নিস
৯. এ্যাকোয়া এনামেল গ্ল­জ
১০. রংগিলা সিনথেটিক এনামেল
১১. এ্যাকোয়া এন্টিকরেসিভ প্রাইমার

এ্যাকোয়ার বৈচিত্রময় স্পেশাল প্রোডাক্টস:

এ্যাকোয়া স্টাইল প্লাস গ্লেজ পেইন্ট
এ্যাকোয়া অ্যালুমিনিয়াম পেইন্ট
এ্যাকোয়া টেনিস কোট পেইন্ট
এ্যাকোয়া রোড মার্কিং পেইন্ট
এ্যাকোয়া ফ্লোর মাস্টিক পেইন্ট
এ্যাকোয়া রুফ কোট পেইন্ট

এ্যাকোয়া পেইন্টস এর কয়েকটি স্পেশাল  পন্যের বৈশিষ্ট:

এ্যাকোয়া উড ভার্নিশ: কাঠের তৈরী আসবাবপত্রকে বিভিন্ন ধরনের কীট, পতঙ্গের আক্রমন হতে রক্ষার জন্য অ্যাকোয়া নিয়ে এল  এক স্পেশাল ভার্নিশ যা  এ্যাকোয়া উড ভার্নিশ নামে পরিচিত। বাজারের অন্যান্য উড ভার্নিশ হতে এ্যাকোয়া উড ভার্নিশের রয়েছে স্পেশাল বৈচিত্র।  ইহা যেমনি কাঠের উজ্জলতা সৃস্টি করে তেমনি তার দীর্ঘ স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করে। ইহা  স্ধাারনত কাঠ, বাঁশ, প্লাইউড, ও হার্ডবোডের তৈরী বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রসমুহে  সমান ভাবে ব্যবহার উপযোগী।

অ্যাকোয়া টেনিস কোর্ট পেইন্ট:
এই পেইন্ট সাধারনত টেনিস খেলার মাঠে ব্যবহার উপযোগী একটি অতি উন্নতমানের রং যা সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি অতিমাত্রায় পিচ্ছিলতা প্রতিরোধী, টেনিস কোটের পৃষ্টের দৃঢ়তা প্রদানকারী হিসেবে জনপ্রিয় রং। এই পেইন্ট অতিরিক্ত ধুলোবালি জমতে দেয় না।

এ্যাকোয়া স্টাইল প্লাস গ্লোজ পরসন:
অতি উন্নত মানের পিগমেন্ট এবং বিদেশ হইতে আমদানিকৃত কাঁচামালের মাধ্যমে এই স্টাইল প্লাস গ্লজ পরসন তৈরী হয়ে থাকে যা আপনার শোবার ঘর, ডাইনিং বা ড্রইং রুমে তৈরী করবে এক ধরনের প্রাকৃতিক শোভা। নানান রংয়ের বিভিন্ন নকশার মাধ্যমে আপনিও পেতে পারেন এক মনমুগ্ধকর ডিজাইন।

এ্যাকোয়া সোলার রিফ্লেকটিভ রুফকোট:
এ্যাকোয়া পেইন্টস এই প্রথম বাংলাদেশের বাজারে এক বিশেষ ধরণের প্রোডাক্ট নিয়ে এলো যা অ্যাকোয়া সোলার রিফ্লেকটিভ রুপ কোট নামে পরিচিত। ইহা সাধারণত সূর্যের ক্ষতিকারক আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্নি প্রতিরোধ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম তাই ঘরের ছাদের উপরে ব্যবহার করলে ছাদের উপরিভাগ যেমন মসৃন এবং নমনীয় হয় তেমনি ঘরের ভিতরে শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। অর্থাৎ বাহিরের তাপমাত্রা হইতে ভিতরের তাপ মাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি কম অনুভুত হয়। ইহা চমৎকার পানি প্রতিরোধী গুন সম্পন্ন । ইহা সর্বোচ্চ দুই কোট ব্যবহার যথেষ্ট। ১ম কোট ব্যবহার করার ৪৮-৭২ ঘন্টা পরে দ্বিতীয় কোট ব্যবহার করাই শ্রেয়।

এ্যাকোয়া রোড মাকিং পেইন্ট:
বিশেষ ধরনের থার্ম প্লাষ্টিক রেজিনের সমণ্বয়ে তৈরী এ্যাকোয়া রোড মার্কিং পেইন্ট। যা সাধারনত তাপ, অধিকতর চাপ এবং পানি বিকর্র্ষী হওয়ার কারনে কালারকে অধিকতর স্থায়ীত্ব প্রদান করেএবং রাতের বেলায় আলোক প্রতিফলিত করে দর্শনের অনুভুতি জাগায়। ইহা সাধারনত বিটুমিনের তৈরী রাস্তা, কনক্রিট, কার পার্কিং জোন, বিমান অবতরনের রানওয়েতে ব্যবহার করা যায়।

চকচকে ধাতব পদার্থ অথবা গ্যালভানাইজ্ড পদার্থ রং করার পদ্ধতি(এ্যাকোয়া)
লোহা বা ধাতু দিয়ে তৈরী বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র বা রেলিংয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এর উপর গ্যালভানাইজ্ড এর প্রলেপ দেয়া হয় তাই এই সকল বস্তুর উপর রং দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এই সকল পদার্থ রং করার পূর্বে Aqua Thinner দিয়ে ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে যাতে তৈল জাতীয় কোন আঠালো বস্তু না থাকে। তারপর ১ কোট Aqua under coat প্রাইমার ব্যবহার করে ভালভাবে শুকানোর পর আপনার পছন্দমত Aqua enamel Gloss এর যে কোন সর্বৎকৃস্ট কালার দিয়ে টেকশই ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

ধাতু দিয়ে তৈরী পদার্থ রং করার পদ্ধতি)
রং করার পূর্বে জায়গাটি অবশ্যই ধূলাবালি, তৈলাক্ত পদার্থ, মরিচা বা যে কোন ধরনের আলগা বস্তু শিরিষ কাগজ দিয়ে এবং প্রয়োজনবোধে মরিচা তারের ব্রাশের সাহায্যে ভালভাবে ঘষে পরিস্কার করে স্থানটি শুকিয়ে নিতে হবে। রং করার পূর্বে এক কোট অয়ঁধ (এ্যাকোয়া) এন্টি করেসিভ প্রাইমার ব্যবহার ভাল হয়। এরপর এ্যকোয়া এনামেল গ্লস থেকে আপনার পছন্দমত একটি কালার নির্বাচন করে পরিমানমত থিনার দিয়ে পাতলা করার পর ১ম কোট ব্যবহার করার কমপক্ষে ৩-৫ ঘন্টা পরে দ্বিতীয় কোট ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

ইটের তৈরী দেয়াল রং করার পদ্ধতি:
– ইট, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী দেয়াল রং করার পূর্বে প্রথমেই বিবেচ্য বিষয় হবে এর আদ্রতা শৃকানো নিশ্চিত করা। তাই ইটের তৈরী দেয়াল তৈরী হওয়ার পর রং করার পূর্বে কমপক্ষে ৬০-৭০ দিন অপেক্ষা করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। সিরামিক জাতীয় ইটের তৈরী দেয়ালের আসল রং অটুট রাখার জন্য অয়ঁধ ংরষরপড়হ ঋরহরংয ব্যবহার করলে তাতে অন্য কোন রং মিশানোর প্রয়োজন নাই এবং এতে ইটের আসল রং সর্বদা অটুট থাকে।

রং এর প্রতিফলন বা দৃষ্টিগোচর হওয়ার জন্য সাধারন যে শর্ত:
আমরা জানি, যে আলোর বা রংয়ের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি সে আলো বা রং সাধারনত বেশী দৃস্টগোচর হয়। তাই সাধারনভাবে জানার জন্য আমরা কয়েকটি আলোর বা রংএর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য পর্যালোচনা করছি যা নিম্নরুপ:
লাল আলো বা রং – ৬৩৫ ন্যানো মি- ৭০০
কমলা – ৫৯০ ন্যানো মি-৬৩৫

হলুদ – ৫৬০ন্যানো মি-৫৯০

সবুজ – ৫০০ন্যানো মি -৫৬০

নীল – ৪৫০ন্যানো মি -৪৯০

বেগুনী – ৪০০ন্যানো মি-৪৫০

মানুষের মনের উপর রং বা আলোর ক্রিয়া কৌশল:

বিভিন্ন ধরনের রং মানুষের মনকে বিভিন্নভাবে আন্দোলিত করে। আমরা জানি প্রাইমারি কালারকে মনস্তাত্বিকভাবে বিশ্লেষন করলে সাধারনত চারটি কালার পাওয়া যায় । যেমন : লাল, নীল, হলুদ, সবুজ (জণঈএ) এই রং গুলো সাধারনত মানুষের শরীর, মন ও আবেগের সাথে একটি যোগসূত্র গড়ে তুলে। নিম্নে আমরা কয়েকটি কালার এর সাথে এই যোগসূত্র দেখানো হলো:

কালার/আলো শরীর, মন ও আবেগের সাথে সম্পর্ক
লাল দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য সবচেয়ে দর্র্শনীয় কালার। ইহা শরীর ও মনকে উজ্জীবিত করে এবং হৃদ স্পন্দন বাড়াতে সহায়তা করে,অনেকে একে আক্রমনাত্বক রং হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ট্রাফিক লাইটে সাধারনত এই রং ব্যবহার করা হয়।
নীল এই কালারকে সাধারন সর্বাধিক জন প্রিয় রং বলা হয়। এই রংয়ে বিশ্বাস মানুষকে সাধারনত যৌক্তিক বলে মনে করা হয়। ইহা সাধারণ মেঘমুক্ত আকাশের প্রশ্নান্তির পরিচায়ক।
বেগুনী সাধারন ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিস্ট কালার বেগুনী। এই কালার সাধারনত মনকে উচ্চ ধ্যান ধারনার আসনে অধিষ্ঠিত করে।
সবুজ সর্বদাই চিরবিশুদ্ধ, চিরসজিব, নির্মল পৃথিবীর বুকে সর্বদাই প্রশান্তিদায়ক সৃস্টি করে। সু-বিস্তৃত তরুলতার হাতছানিতে সর্বদাই যেন সবুজ অনুভুত হয়।
সাদা সুভ্রতার প্রতীক , মন ছুয়ে যায়, আকাশের পানে বিস্তৃত খালি জায়গায় বিশাল সাদা মেঘের হাতছানি দেয় যেন মনে মনে বলে ছুঁয়োনা আমায়।
হলুদ সাধারনত মাঝারী পাল্লার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিস্ট রং।উত্তেজনা সৃস্টিকারী ক্রিয়া সংঘটিত করতে সহায়ত ভূমিকা পালন করে।
বাদামী ইহাকে প্রকৃতির রং বলা হয়। যেমন প্রকৃতীর বিশাল সবুজের সমারহের সাথে বাদামি কাঠামো যেন হাসি, আনন্দ এর সাথে বিষাদের সংমিশ্রন এক আবেগঘন মূহুর্ত সৃস্টিকারী রং।

রং ব্যবহারের সাধারণ কারিগরি নির্দেশিকা ঃ

ক্রমিক নং রংএর প্রকারভেদ ব্যবহৃত থিনার/থিনার পাতলা কারক কভারেজ প্রতি লিটার ২কোট হিসেবে শুকানোর সময় প্রতিকোট হিসেবে প্রাথমিক শুষ্ক করন পুরোপুরি শুষ্ক করন যে সকল বস্তুর উপর প্রলেপ দেয়া হয়।
১। সিনথেটিক এনামেল গ্লস এ্যানামেল থিনার ৭০-৮০  ব: ফু: ২-৩ ঘন্টা ১২-১৫ঘন্টা লোহা,স্টীল, কাঠ,হার্ডবোর্ড
২। সিনথেটিক এনামেল ম্যাট ৭০-৮০  ব: ফু: ৩০-৫০ মিনিট ১২-১৬ঘন্টা লোহা,স্টীল, কাঠ,হার্ডবোর্ড
৩। সি এনামেল ৬০-৭০ – ব: ফু: ২-৩ ঘন্টা ১২-১৬ঘন্টা লোহা,স্টীল, কাঠ,হার্ডবোর্ড
৪। সিনথেটিক এন্টি করোসিভ ৫০-৫৫ব: ফু: ৩০-৫০মি ২-৩ ঘন্টা লোহা,স্টীল, কাঠ ,  হার্ডবোর্ড
৫। সিনথেটিক আন্ডার কোট ১২০-১৩০ ব: ফু: ৩০-৪০মি ৪-৬ ঘন্টা লোহা, যানবাহন
৬। এলু মিনিয়াম পেইন্ট(ডুয়েল প্যাক) ৬০-৭০ ব: ফু:   ৪-৬ ঘন্টা ধাতুসকল
৭। এ্যাকোয়া উডভার্নিশ ৬০ – ৭০ ব: ফু:/কোট ৩-৪ ঘন্টা ১২-১৬ঘন্টা কাঠ,হার্ড বোর্ড,প্লাই উড
৮। এ্যাকোয়া রোড মার্কিং পেইন্ট চমক থিনার ৪০ -৫০ ব: ফু: ০৫-১০ মি ৩-৪ ঘন্টা কনক্রিট, বিটুমিন, রানওয়ে।
৯। এ্যাকোয়া ফ্লোর মাস্টিক পেইন্ট           “ ৫০-৬০ ব: ফু: ১০-১৫মি ৩-৪ ঘন্টা ফ্লোর
১০। প্লাষ্টিক ইমালসন পানি ৬০-৭০
ব: ফু:
২৫-৩০মি ৪-৬ ঘন্টা দেয়াল,বোর্ড
১১। এ্যাকোয়া ডি+ পানি ৫০-৬০
ব: ফু:
৩০-৪০মি ৪-৬ ঘন্টা দেয়াল
১২। আউটার কোট পানি ৬০-৭০ ব: ফু: ২৫-৩০- মি ৪-৬ ঘন্টা দেয়ালের বর্হিভাগ
১৩। ওয়াটার সিলার পানি ১৪০-১৫০ ব: ফু:/ কোট ২৫-৩০ মি ৪-৬ ঘন্টা দেয়াল
১৪। ওয়াল পাট্টি পানি ২৫-৩০ ব: ফু: ২৫-৩০ মি ৪-৬ ঘন্টা দেয়াল
১৫। টেনিসকোট পেইন্ট পানি ৫০-৫৫ ব: ফু: ২৫-৩০ মি ৪-৬ ঘন্টা টেঁনিস-গ্রাউন্ড
১৬। সিল্ক প্রিমিয়াম ইমালসন পানি ৬০-৭০ ব: ফু: ২৫-৩০ মি ৪-৬ ঘন্টা অভ্যন্তরীণ দেয়াল
১৭। ওয়াটার রিপিলেন্ট পানি ৬০-৭০ ব: ফু: ২৫-৩০ মি ৪-৬ ঘন্টা ইট,কনক্রিট

এ্যাকোয়া পেইন্টস এর বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার বেজ্ড সমাহার থেকে আপনার জন্য স্থানের ধরন অনুযায়ী কিছু কালারের সম্ভাব্য মডেল দেওয়া হলো:

স্থানের ধরন সমভাব্য রংয়ের/কালারের মডেল হতে পারে
ডাইনিং হল/রুম -ক্যাজুয়েল
-অফিসিয়াল
-কোস্টাল কটেজ
Aqua Lt green , Lt Brown
Lt Golden, Off white, Lt Brown
Brilliant white
বেড রুম -ক্যাজুয়েল/জেনারেল
-ফ্যামিলী
-চিলড্রেন্স
Aqua Cream
Vanilla, Milk white
Aqua Falsetto, sweet pink, Tile Red
বাথরুম -ণ্যাচারাল
-মাষ্টার বাথ
-অফিসিয়াল
Aqua summer greay
Aqua ice blue
Aqua Blossom
কিচেন রুম -জেনারেল
-অফিসিয়াল
Aqua Lt grey,Silver lining
Aqua style plus multicolor
হল রুম/পার্টি সেন্টার-জেনারেল/অফিসিয়াল Ocean blue, Glacien blue
ড্রইং রুম – জেনারেল
-অফিসিয়াল
Off white
Vanilla, Pale Pink

বিভিন্ন ধরনের দেয়াল রং করন কৌশল

দেয়ালের প্রকার : নতুন তৈরী দেয়ালের ভিতরের অংশ
নতুন দেয়াল প্রথমে দেয়াল ভালভাবে ৪০/৬০গ্রেডের পাথর অথবা ১১০ সিরিজ কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। এক কোট ইনটেরিয়র ওয়াটার বেস সিলার দিতে হবে ৪-৬ ঘন্টা শুকানোর পরে ওয়াল পাট্টি দিয়ে দেয়াল মসৃন করতে হবে। এরপর পছন্দ মত এ্যাকোয়া ডিপ্লাস, প্লাস্টিক এমালসন, স্লিক এমালসন এর সাথে পরিমান মত পানি মিশিয়ে পর পর দুই কোট ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
পুরাতন দেয়াল প্রথমে দেয়াল ভালভাবে ৪০/৬০গ্রেডের পাথর অথবা ১১০ সিরিজ কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। কোথাও কোন ছিদ্র বা ফাটা থাকলে তা সারিয়ে নিতে হবে। এক কোট ইনটেরিয়র ওয়াটার বেস সিলার দিতে হবে ৪-৬ ঘন্টা শুকানোর পরে ওয়াল পাট্টি দিয়ে দেয়াল মসৃন করতে হবে। এরপর পছন্দ মত এ্যাকো ডিপ্লাস প্লাস্টিক এমালসন, স্লিক এমালসন এর সাথে পরিমান মত পানি মিশিয়ে পর পর দুই কোট ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
  নতুন তৈরী দেয়ালের বাহিরের অংশ
নতুন দেয়াল প্রথমে দেয়াল ভালভাবে ৪০/৬০গ্রেডের পাথর অথবা ১১০ সিরিজ কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। কোথাও কোন ছিদ্র বা ফাটা থাকলে তা সারিয়ে নিতে হবে। বাহিরের অংশে পুটিং না করাই ভাল কারন বৃষ্টির পানিতে পুটিং ফুলে উঠতে পারে। এক কোট এক্সটেরিয়র ওয়াটার বেস সিলার দিতে হবে ৪-৬ ঘন্টা শুকানোর পরে পছন্দ মত এ্যাকো ডিপ্লাস,আউটার কোট, আউটার চমক এর সাথে পরিমান মত পানি মিশিয়ে পর পর দুই কোট ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
পুরাতন দেয়াল প্রথমে দেয়াল ভালভাবে ৪০/৬০গ্রেডের পাথর অথবা ১১০ সিরিজ কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। ছত্রাক, ফাঙ্গাস জাতীয় বস্তু থাকলে তা পরিস্কার করতে হবে । কোথাও কোন ছিদ্র বা ফাটা থাকলে তা সারিয়ে নিতে হবে। বাহিরের অংশে পুটিং না করাই ভাল কারন বৃষ্টির পানিতে পুটিং ফুলে উঠতে পারে। এক কোট এক্সটেরিয়র ওয়াটার বেস সিলার দিতে হবে ৪-৬ ঘন্টা শুকানোর পরে পছন্দ মত এ্যাকেডিপ্লাস,আউটার কোট, আউটার চমক এর সাথে পরিমান মত পানি মিশিয়ে পর পর দুই কোট ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

রং করার জায়গা পরিমাপের একটি সাধারন হিসাব:

যে জায়গা রং করতে হবে প্রথমেই উচিত সেই জায়গার একটি পরিমাপ জানা কারন পরিমাপ জানা না থাকলে রং এর হিসাব এবং দাম সঠিকভাবে মিলানো কস্টকর। তাই এক্ষেত্রে একজন দক্ষ রং মিস্ত্রী অথবা যে কোন পেইন্টস এর কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে জায়গার পরিমাপ করার জন্য নিচে একটি সাদা মাটা উদাহরন দেয়া হলো যাতে করে আপনিও নিজে একটি ধারনা পেতে পারেন। ধরুন আপনি একটি বাড়ি করেছেন তাতে ৫টি কক্ষ আছে এখন আপনি একটি কক্ষেও হিসাব কষে পুরো বাড়ির দেয়ালের পরিমাপ জানতে পারবেন। যেমন বলা হলো আপনার বেড রুম অর্থাৎ শোবার ঘর রং করতে হবে তাতে ঘরটির বর্ণনা যদি এরুপ হয় যে এর দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট প্রস্থ ১২ ফুট এবং উচ্চতা ৯ ফুটএবং বলা হলো কক্ষটিতে একটি ৩ * ৭ ফুট মাপের দরজা আছে এবং ৪*৫ ফুট মাপের জানালা আছে তা হলে নিম্নের হিসেবের সাহায্যে সহজেই এই ঘরের পরিমাপ বেরকরা যায়।

যেমন চার দেয়ালের ক্ষেত্রফল জানার জন্য

চার দেয়ালের মোট ক্ষেত্র ফল = ২ * দৈর্ঘ্য+ ২ * প্রস্থ * উচ্চতা
অথবা
২ * দেয়ালের দৈর্ঘ্য + ২ * দেয়ালের প্রস্থ * দেয়ালের উচ্চতা
= ২ * ১৮ + ২ * ১২ * ৯
=৩৬+২৪*৯
=৬০*৯
= ৫৪০ বর্গফুট।

এবার ছাদের ক্ষেত্রফল =১৮* ১২ = ২১৬ বর্গ ফুট

দরজার জায়গার পরিমার = ৩ * ৭ = ২১ ফুট

জানালার জায়গার পরিমান = ৪ * ৫ = ২০ ফুট

তা হলে বেড রুম অর্থাৎ শোবার ঘরটির মোট পরিমাপ পেতে হলে দেয়াল এবং ছাদের পরিমাপ যোগ করে তা হতে দরজা এবং জানালার পরিমাপ বাদ দিতে হবে।
মোট পরিমাপ =( ৫৪০ + ২১৬) -(২১+২০)
= ৭৫৬ – ৪১
= ৭১৫ বর্গফুট।

– এভাবে আপনি আপনার বাড়ির সমস্ত ঘরের কক্ষগুলার পরিমাপ নির্ণয় করে একটি সাধারণ বাজেট নির্নয় করতে পারেন।

রং ব্যবহার করার কিছু নির্দেশিকা ও বিশেষ সতর্কতা:

    • ক্ষেত্র প্রস্তুত করণ: রং করার পূর্বে এর স্থান বা ক্ষেত্র অর্থাৎ রং করার জায়গা ভালভাবে পরিস্কার করে ধুলো-বালি, তেল গ্রীজ, ফাঙ্গাস, ছত্রাক ইত্যাদি থাকলে তা ঘষে তুুলে ফেলতে হবে। উঁচু-নীচু, আঁকাবাকা, ছিদ্রতা ইত্যাদি থাকলে তা সমান করে নিতে হবে। এরপর বস্তুর জন্য নির্দিষ্ট প্রাইমার বা আন্ডার কোট নির্বাচন করে এর উপর সর্বশেষ ফিনিশিং কোট ব্যবহার করতে হবে।
    • রং পাতলা করণ: রং পাতলা করনের জন্য নির্দিষ্ট রংয়ের সাথে নির্দিষ্ট থিনার পরিমানমত মেশাতে হবে যাতে করে রং অতিরিক্ত পাতলা না হয়ে যায়। প্রথম কোট ব্যবহারের পর পুরোপুরি না শুকান পর্যন্ত দ্বিতীয় কোট না ব্যবহার করাই ভাল। তাই এক্ষেত্রে বিভিন্ন রং এর সাথে দেয়া নির্দেশাবলী ভালভাবে পড়ে নিতে হবে।
    • আবহাওয়া উপযোগিতা: রং করার জন্য আবহাওয়া উপযোগীতা খুবই গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার । কারন অতিরিক্ত বৃষ্টি বা গরম কোন ক্ষেত্রেই রং এর কাজ না করা ভাল। তবে বৃষ্টির দিনে রং না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আলো এবং বাতাস নির্গম হয় এমন জায়গায় রং করা শ্রেয়।
    • রং সংরক্ষন: রং ব্যবহারের পূর্বে যেমন ভালভাবে নেড়ে রং ব্যবহার করতে হয় তেমনি ব্যবহারের পর ভালভাবে ঢাকনা লাগাতে হবে যাতে করে বাতাস চলাচল না করতে পারে তা না হলে রং এর উপরে প্রলেপ পড়ে রং তার কার্যকরিতা হারাবে। এই ক্ষেত্রে পরামর্শ বড় কৌটার রং শেষ হয়ে গেলে তা ছোট কৌটায় মুখ পর্যন্ত ভর্তি করে রাখতে হবে।
    • রং করার যন্ত্রপাতি সংরক্ষন: রং করনের সাথে সম্পর্কিত টুল্স যেমন ব্রাশ, রোলার, স্প্রেগান , স্ক্রেপার ইত্যাদি রং করনের পরপরই নির্দিষ্ট থিনারে ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা পরিস্কার করতে হবে অন্যথায় এগুলো কার্যকরিতা হারাবে।
    • ব্যাক্তিগত সতর্কতা: সকল প্রকার রং শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের নাগালের বাহিরে রাখা ভাল। এনামেল জাতীয় রং দাহ্য বস্তু তাই রং করার সময় পানা হার বা ধূমপান করা উচিৎ নয় এবং রং সর্বদা আগুন থেকে দূরে রাখা নিরাপদ। রং যাতে চোখে না লাগে সেই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং চোখে পরলে প্রচুর পরিমান পানি ঢালতে হবে। নাকে এবং মুখে মাস্ক পরে নিলে ভাল হয়, হাতে গ্লভ্স পরিধান করলে হাতের ত্বক অধিকতর সু-রক্ষা থাকে। কোন রকম অসুবিধা তৈরী হলে নিকটস্থ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।